আংটি হারিয়ে ৪০ দিন যে কারণে ক্ষমতাশূণ্য ছিলেন নবী সোলায়মান আ:

নবী হজরত সোলায়মান [আ.] আল্লাহপ্রদত্ত বিশেষ জ্ঞান ও শক্তির অধিকারী ছিলেন। আল্লাহ তাআলা তাকে পশুপাখির ভাষা বোঝার জ্ঞান দিয়েছিলেন এবং তিনি বিশেষ ক্ষমতাবলে জ্বিনদের ওপর শাসন করার ক্ষমতা লাভ করেছিলেন।

কিন্তু অনেকেই প্রশ্ন করেছেন, এই ক্ষমতা তিনি কীভাবে করায়ত্ত করেছিলেন এবং কীভাবে তা ব্যবহার করতেন? তাফসিরে ইবনে কাসির, তাফসিরে তাবারিসহ প্রায় সকল তাফসিরগ্রন্থে কয়েকজন সাহাবা যে কারণে আংটি হারিয়ে ৪০ দিন ক্ষমতাশূণ্য ছিলেন নবী সোলায়মান [আ:]

এবং বিশিষ্ট ইমামগণের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, হজরত সোলায়মান [আ.]-এর হাতে একটি বিশেষ আংটি ছিলো। আংটিটি ছিলো ‘ইসমে আজম’ খোদিত। এই আংটির বদৌলতেই তিনি পৃথিবীর ওপর রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

এই আংটির ‘ইসমে আজম’-এর শক্তিবলে তিনি জিনদের তার করতলগত করেছিলেন এবং তাদের দ্বারা অসম্ভব সব কাজ করাতেন।

যে কারণে আংটি হারিয়ে ৪০ দিন ক্ষমতাশূণ্য ছিলেন নবী সোলায়মান [আ:] দুর্ঘটনাবশত একবার এক শয়তান জিনের চক্রান্তে তার এই আংটি হারিয়ে যায় এবং সেই জ্বিন তার পুরো রাজত্ব নিজের কব্জায় নিয়ে রাজ্যশাসন শুরু করে। নবী সোলায়মান নিঃস্ব হয়ে পথে প্রান্তরে ঘুরতে থাকেন।

ইবনে কাসির হজরত কাতাদাহ [রহ.]-এর বরাত দিয়ে ঘটনাটি বর্ণনা করেন। ঘটনাটি এরকম- সোলায়মান [আ.] যখন আল্লাহর পক্ষ থেকে বায়তুল মুকাদ্দাস নির্মাণে আদিষ্ট হন তখন তিনি লৌহকর্মে পারদর্শী একজন জিনের তালাশ করলেন।

যে কারণে আংটি হারিয়ে ৪০ দিন ক্ষমতাশূণ্য ছিলেন নবী সোলায়মান [আ:] তাকে জানানো হলো, অমুক সাগর মোহনায় একজন জিন আছে, সে এ কাজে পরদর্শী। বিশেষ প্রক্রিয়ায় তাকে ধরে আনা হলো।

তার নাম ছিলো ‘সাখার’, কেউ কেউ আসেফ বা সারাদও বলেছেন। তাকে ধরে আনায় সে খুশি ছিলো না, অনিচ্ছাসত্ত্বেও সে কাজ শুরু করে। সে নবী সোলায়মানের ওপর প্রতিশোধ নেয়ার চিন্তা করে।

একদিন নবী সোলায়মান [আ.] যখন গোসলখানায় ঢুকেন তখন আংটিটি প্রিয়তমা স্ত্রী জারদাহর কাছে দিয়ে যান। কেননা আংটিতে পবিত্র এসমে আজম খোদিত থাকায় সেটি আঙুলে পরে তিনি কখনো প্রয়োজন সারতে

যে কারণে আংটি হারিয়ে ৪০ দিন ক্ষমতাশূণ্য ছিলেন নবী সোলায়মান [আ:] গোসলখানায় যেতেন না। তক্কে তক্কে থাকা শয়তান জিন সাখার নবী সোলায়মানের রূপ ধারণ করে নবিপত্নী জারদার কাছে এসে আংটি নিয়ে যায়।

নবী সোলায়মান প্রয়োজন সেরে আংটিটি চাইলে তার স্ত্রী বলেন, তুমি কে? আংটি তো বাদশাহ সোলায়মান নিয়ে গেছে। আল্লাহর নবী যা বোঝার বুঝে নেন। ওদিকে জিন সাখার ওই আংটিটি সমুদ্রে নিক্ষেপ করে।

কেননা এ আংটিটি নবী সোলায়মান ছাড়া অন্য কেউ ব্যবহার করার উপযুক্ত নয়। জিন সাখার নিজের শয়তানি ক্ষমতাবলে সোলায়মান [আ.]-এর রূপ ধারণ করে রাজ্যশাসন শুরু করে এবং সোলায়মান [আ.] -কে রাজ্য থেকে বিতাড়ন করে দেয়।

আপনি দেখেছেন কি?

নবী-রাসুলরা কে কোন পেশায় ছিলেন?

ইসলাম ধর্মে, রাসুল হলেন আল্লাহ্ প্রেরিত বার্তাবাহী ব্যক্তিত্ব। রাসূল বলতে তাদেরকেই বোঝানো হয় যারা আল্লাহ্‌র …

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE