fbpx

একটি ইঁদুর এক চাষীর ঘরে গর্ত করে লুকিয়ে থাকতো একদিন ইঁদুরটি দেখলো চাষী আর তার স্ত্রী থলে থেকে কিছু জিনিস…..

একটি ইঁদুর এক চাষীর ঘরে গর্ত করে লুকিয়ে থাকতো। একদিন ইঁদুরটি দেখলো চাষী আর তার স্ত্রী থলে থেকে কিছু একটা জিনিস বের করছেন। ইঁদুর ভাবলো থলের ভিতর নিশ্চয়ই কোনো খাবার আছে, তাই সে গুটি গুটি পায়ে এগোলো। এগিয়ে দেখলো সেটা খাওয়ার কিছু নয়, সেটা ছিল একটা ইঁদুর ধরার ফাঁদ।

ফাঁদ দেখে ইঁদুর পিছোতে থাকলো। ইঁদুরটি বাড়ির পিছনের এক খোপে থাকা পায়রাকে গিয়ে বলল- জানো আজ বাড়ির মালিক একটা ইঁদুর ধরার ফাঁদ এনেছে। এটা শুনে পায়রা হাসতে থাকলো আর বলল- তাতে আমার কি? আমি কি ওই ফাঁদে পড়তে যাব না কি? নিরাশ হয়ে ইঁদুরটি মুরগীকে গিয়ে এই কথা বলল।

মুরগী ইঁদুরকে হেয় করে বলল- যা ভাই এটা আমার সমস্যা নয়। ইঁদুরটি হাঁপাতে হাঁপাতে মাঠে গিয়ে ছাগলকে শোনালো। ছাগল শুনে হেসে লুটোপুটি অার ঘাস খেতে থাকলো। সেই দিন রাত্রে একটি শব্দ হলো যাতে একটি বিষাক্ত সাপ আটকে গিয়েছিল।

অন্ধকারে চাষীর স্ত্রী সাপের লেজকে ইঁদুর ভেবে বের করলো, আর সাপটি তাকে কাঁমড়ে নিল। অবস্থা খারাপ দেখে চাষীটি ওঝাকে ডাকলো। ওঝা তাকে পায়রার জুস খাওয়ানোর পরামর্শ দিল। **পায়রাটি এখন হাঁড়িতে **। চাষীর স্ত্রীর এই সংবাদ শুনে তার বাড়িতে আত্মীয় সজ্জন এসে হাজির হল।

তাদের খাওয়ার বন্দোবস্তের জন্য **মুরগীকে যবাই হল। **মুরগীও এখন হাঁড়িতে। দুইদিন পর চাষীর স্ত্রী মারা গেল। আর তার দোয়া অনুষ্ঠানে **ছাগলটিকে যবাই হল। **ছাগলও হাঁড়িতে চলে গেল। ইঁদুর দুরে পালিয়ে গিয়েছিল বহুদূরে।

**যদি কেউ আপনাকে তার সমস্যার কথা শোনায় আর আপনি ভাবেন যে এটাতো আমার সমস্যা নয়, তবে দাঁড়ান আর একবার ভালো করে চিন্তা করুন। আমরা সবাই বিপদে আছি। সমাজের একটা অংশ, একটি ধাপ-পর্যায়, একজন নাগরিক, যদি বিপদে থাকেন তবে পুরো দেশ বিপদে আছে। নিজের মধ্যে সিমীত না থেকে সামাজিক হোন..আর মানবধর্মের জন্য একত্রিত হোন।

ভরসা করুন আল্লাহর উপর

বিয়ের আগে থেকেই মনে মনে চাইতাম, আল্লাহ যদি আমাকে সন্তান দেন, সেটা যেন মেয়ে হয়। কিন্তু সুবাইতা যখন তার মায়ের পেটে আসে, তখন সেই দুআটা আর করতাম না। ভয় লাগতো, যদি আল্লাহ না দেন, খারাপ লাগবে খুব। বরং এভাবে দুয়া করতাম, আল্লাহ সুস্থ সন্তান দিও। ছেলে হোক, মেয়ে হোক, তোমার ফায়সালাতেই রাজি।

আল্লাহ মেয়ে দিলেন। সুস্থ হিসেবেই দুনিয়াতে আনলেন। প্রথমবারের মত উপলব্ধি করলাম, আমার মুখের ভাষা, দুআর শব্দ যিনি শুনেন, তিনি তো মনের গভীরে লুকিয়ে থাকা ইচ্ছেটাও জানেন। সর্বময় ক্ষমতার অধিকারি আমার রব তার বান্দাকে চোখে পানি চলে আসার মত খুশি করে দিলে তার তো কোন ক্ষতি নেই।

দ্বিতীয় বার। প্রথমটা যেহেতু মেয়ে, বাসার সবাই চায় ছেলে হোক। প্রতিবার আলট্রাসোনাগ্রাফির সময় বাচ্চার মা ডক্টরকে জিজ্ঞেস করেন, ছেলে না মেয়ে। একেকবার একেক কারনে ডক্টর বলেন না। মনে মনে আগেরবারের মতই দু’আ করি, আল্লাহ যা দিবা, আমি খুশি।

একবার যা চেয়েছি তাই পেয়েছি, দ্বিতীয়বার আল্লাহর ফায়সালাতেই রাজি থাকি। ডেলিভারির দুইদিন আগে জানতে পারলাম, ছেলে হবে ইন শা আল্লাহ। তখনো বিশ্বাস হচ্ছিল না। দুইদিন পর যখন পুচকাটাকে কোলে নেই, ডক্টর আযান দিতে বলে, অনেকক্ষন মুখ দিয়ে কিছু বের হচ্ছিল না।

কাঁদতে থাকলে মানুষ কি কথা বলতে পারে? বিয়ের আগে ও পরে এরকম শত শত দু’আ করেছি, যার ধারে কাছেও কখনো পাই নি। বরং যা চেয়েছি তার উলটোটাও হয়েছে বহুবার। মুষড়ে পড়েছি, কষ্টও লেগেছে। অভিমান তো হতই।

আজ যখন দুই ভাই বোন পাশাপাশি ঘুমাচ্ছিল, শান্ত দু খানা মুখের দিকে তাকিয়ে নিজেকেই প্রশ্ন করছিলাম, কোনটা বেশি? অপ্রাপ্তির কষ্ট না প্রাপ্তির আনন্দ? উত্তর আসতে দেরী হল না একটুও। প্রাপ্তির আনন্দ – সে তো তুলনাহীন ভাবে বেশি।

ভরসা রাখুন তার ওয়াদার উপর। যিনি আপনার সব প্রার্থনা শোনার পরও আপনার আশা পুরন করছেন না, তিনি নির্দয় নন, পরম দয়ালু। বাঁধ ভাঙ্গা খুশিই হয়তো অপেক্ষা করছে আপনার জন্য। একটু ধৈর্য ধরলেই যার নাগাল পেয়ে যাবেন আপনি। “নিশ্চয়ই যিনি কাঁদান, তিনিই হাসান।”- সুরা নাজম।

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE