একটি দুর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না : চালকদের যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখা খুবই জরুরি

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন ঝরে যায় কতো প্রাণ। এভাবে প্রিয়জন হারানোর আর্তনাদ আর কান্নায় বাতাস ভারী হচ্ছে প্রতিদিন। দেশের রাস্তাগুলো যেন মৃত্যুফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ একটু সচেতন থাকলে এবং কিছু ব্যাপার খেয়াল রাখলে ঠেকানো যেতে পারে সড়ক দুর্ঘটনা। সড়ক দুর্ঘটনা যেনো না ঘটে সেজন্য যা জানা জরুরি-

১) সবসময় সজাগ থাকতে হবে গাড়ি চালানোর সময়। শুধুমাত্র রাস্তার দিকে মনোযোগ থাকতে হবে। কোনও কিছু যাতে আপনার মন অন্যদিকে সরিয়ে না নেয় সে ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে।

২) কখনোই স্পিড লিমিটের বাইরে যাওয়া যাবে না।

৩) নিজের গাড়িটি প্রতিদিন পরীক্ষা করে দেখুন। নিরাপদ ফিচার আছে এরকম গাড়ি চালালে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়।

৪) পৃথিবীতে ঘটে যাওয়া সড়ক দুর্ঘটনাগুলোর অধিকাংশই ঘটে মাদক গ্রহণ করে গাড়ি চালানোর মাধ্যমে। তাই মাদক, মাদকজাতীয় দ্রব্য কিংবা অ্যালকোহলজাতীয় পানীয় গ্রহণ করে কখনোই গাড়ি চালানো যাবে না।

৫) অন্তত একটা হাত হলেও স্টিয়ারিং হুইলে রাখুন। আর সবচেয়ে ভালো হয় যদি দুই হাত দিয়ে স্টিয়ারিং হুইল কন্ট্রোল করতে পারেন।

৬) শিশু কিশোরদের দিকে খেয়াল রাখুন। বিশেষত শিশুদের উপর, শিশু এবং বিভিন্ন পোষা প্রাণীর হঠাৎ করে গাড়ির সামনে চলে আসার অভ্যাস থাকে। যদি কোনও আবাসিক এলাকা অতিক্রম করেন যতোটা সম্ভব আস্তে গাড়ি চালান।

৭) নিয়মিত গাড়ির ইঞ্জিন রক্ষণাবেক্ষণ করুন। এছাড়াও প্রতিদিন গাড়ির টায়ার ও ব্রেকস পরীক্ষা করে দেখুন। গাড়ির রিয়ার ভিউ মিরর এবং উইনশিল্ড নিয়মিত পরিষ্কার করুন। গাড়ির মিরর ঠিকভাবে পজিশন করা আছে কিনা সেটাও দেখে নিতে হবে।

৮) রাস্তার অন্যান্য চালকদের প্রতি সম্মান রাখুন। সন্দেহজনক কোনও যানবাহন কিংবা কাজকর্ম দেখলে নিরাপত্তা বাহিনীকে জানান।

৯) আগ্রাসী চালকদের কাছ থেকে দূরে থাকুন। কেউ বিপদজনকভাবে গাড়ি চালালে আপনি গাড়ির গতি কমিয়ে দিন।

১০) রাস্তায় নির্দিষ্ট গাড়ির জন্য নির্দিষ্ট লেন থাকলে সেটা মেনে চলার চেষ্টা করুন।

১১) ক্লান্ত অবস্থায় গাড়ি চালাবেন না। এজন্যই পরিবহন বিশেষজ্ঞরা রাতের বেলা গাড়ি চালাতে নিষেধ করেছেন। কারণ এই সময় চালকরা থাকেন ক্লান্ত। সাধারণত অধিকাংশ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে থাকে রাত এবং সকালবেলায়।

১২) গাড়ি চালাতে চালাতে ফোনে কথাও বলা যাবে না। এভাবে আপনার মনোযোগ বিচ্ছিন্ন হয় এবং ফলশ্রুতিতে ঘটে থাকে দুর্ঘটনা।

১৩) খারাপ আবহাওয়ায় গাড়ি চালানোর সময় সাবধান থাকতে হবে। অত্যধিক বৃষ্টি কিংবা তীব্র কুয়াশায় অনেক দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। তাই এ সময়গুলোতে গাড়ি চালাতে খুবই সাবধান থাকতে হবে।

১৪) রাতের বেলা গাড়ি চালানোর সময় আপনার গাড়ির হেডলাইট জ্বালিয়ে রাখুন। যাতে অন্যান্য ড্রাইভার ও পথচারীরা গাড়িকে দেখতে পায়।

১৫) সবচেয়ে বড়ো নির্দেশনা হচ্ছে, তাড়াহুড়া না করা। সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। তাই দেরি হয়ে যাবে এই ভয়ে এবং অসুস্থ প্রতিযোগিতার জন্য ওভারটেকিংয়ের অভ্যাস বন্ধ করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE