ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

কম খরচে ঘুরে বেড়ানোর উপায়! জেনে নিন…

আমাদের সকলের ইচ্চা করে দেশ বিদেশে ঘুরে দেখতে। কিন্তু আমরা অনেক সময় খরচের ভয়ে সেটা করতে পারিনা। আর যেসব জায়গায় ঘুরতে চাই হয়তো সেগুলোতে দূরত্ব এবং পর্যটন মূল্যের কারণে সেসব জায়গায় জিনিসপত্র, তথা যাতায়াত ও হোটেল ভাড়া বেশী থাকে।

ফলে আমরা বাজেটের মধ্যে ভ্রমণ করতে পারি না। একবার কোন ক্রমে ঘুরে আসলে হাত খালি হয়ে যায় দ্বিতীয়বার আর যাওয়া হয়না। কিন্তু । আমরা অনেকেই জানি না যে অল্প কিছু কৌশল অবলম্বন করলে আমরা ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ কোনো কোনোক্ষেত্রে তারও বেশী খরচ সেইভ করতে পারি।

সহজ কথা কখনো কখনো অর্ধেক খরচেও ঘুরে আসতে পারি সেখানে যেখানে যাবো বলে কয়েকবছর ধরে জল্পনা কল্পনা করে আসছি।

আসুন তাহলে জেনে নিই কিভাবে ভ্রমণের খরচ কমাবো?

১. দলীয়ভাবে ভ্রমণ করুন

বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমনে একা না গিয়ে আট দশজন বন্ধু বান্ধব নিয়ে ভ্রমণ করুন খরচ কমে যাবে। যদি গাড়ির পথ হয় এক গাড়িতে কতজন ঘুরতে পারবেন সে গুনিতকে ঘুরুন।

যেমন যেখানে ঘুরতে যাবেন সেখানে নৌকায় ভ্রমণ আছে। সেটা আবার ব্যয় বহূল। সেখানকার নৌকাপ্রতি ৬ জন উঠতে পারে। তাহলে আপনি ৬ জন, ১২ জন অথবা ১৮ জনের দল তৈরী করুন।

২. সুবিধা শেয়ার করুন

পর্যটন এলাকাগুলোতে বিভিন্ন ধরনের হোটেল ও সেবা থাকে। যেমন একটি সিঙ্গেল রুমের ভাড়া যদি ২ হাজার টাকা হয় হয়তো ডাবল রুমের ভাড়া হবে ৩ হাজার টাকা মানে জনপ্রিতি ১৫০০ টাকা, আর চারজনের রুমের ভাড়া হয়তো ৪০০০ টাকা তখন খরচ পড়বে জনপ্রতি ১০০০ টাকা। আবার যদি আপনি কক্সবাজার ভ্রমণ করেন সেখানে ডরমেটরী আছে পর্যটন কর্পোরেশন এর তার সিটভাড়া ৩০০ টাকা। ছাত্রদের জন্য যা খুব সাশ্রয়ী।

৩. সিজন আসার আগেই ভ্রমণ পরিকল্পনা করুন

মনে রাখবেন পিক সিজনে সবকিছুর দাম বেশী থাকে। শুধু তাই নয় কয়েকদিন আগে বুকিং দিতে চাইলে আপনি সিটখালি পাবেন না। তাই সিজন আসার আগেই হোটেল ও অন্যান্য যোগাযোগ করে বুকিং দিয়ে রাখুন। ২০-৩০ শতাংশ সাশ্রয়ী হতে পারে।

৪. ছুটির দিন বাদ দিয়ে ভ্রমণ করুন

ছুটির দিনে সব ভ্রমণ স্পটগুলোতে প্রচুর ভিড় হয়। ফলে সেদিন বাস টিকেট, হোটেলরুম ,খাবার দাবার স্থানীয় পরিবহন সবকিছুর চড়া মূল্য থাকে।

আপনি যদি খোলার দিন ভ্রমণ করতে পারেন অফিস বা কর্মক্ষেত্র থেকে ছুটি নিয়ে ২/১ দিনের জন্য। দেখবেন সব জায়গায় কম দামে পাচ্ছেন। দেখা গেলো দরদাম করে হোটেলে রুম নিতে পারবেন।

৫. পিকটাইমে ভ্রমন করবেন না।

আমদের দেশে অকটোবর থেকে ভ্রমণ মৌসুম শুরু হয় এপ্রিল পর্যন্ত। এর মধ্যে নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত মোটামোটি ভ্রমনের আঁচ থাকে। তবে ডিসেম্বর থেকে ফ্রেব্রুয়ারী পর্যন্ত থাকে পুরো সিজন।

আপনি যদি এই সময়গুলোতে পাশ কাটাতে পারেন। বিশ্বাস করুন আপনি কোনো কোনো ক্ষেত্রে হোটেল ভাড়া ৬০ ভাগ পর্যন্ত সাশ্রয় করতে পারবেন।

আর যদি ডিসেম্বর থেকে ফ্রেব্রুয়ারী মাসে ভ্রমন করেন তাহলে ধরে রাখবেন যে, আপনি নিয়মিত খরচ থেকে আরো ২০ থেকে ৩০ ভাগ বাড়তি খরচের দিকে যাচ্ছেন।

৬. আগেই বুকিং দিন

আপনি হাতে সময় নিয়ে ভ্রমণ পরিকল্পনা করুন। এবং হোটেল ও অন্যান্য সেবা সাম্ভাব্যক্ষেত্রে আগেই বুকিং দিয়ে রাখুন। অগ্রিম বৃকিং এর জন্য হোটেলগুলো কমদামে নিতে পারে। আপনি বিকাশের চেয়ে অনলাইনকে বেশী প্রায়োরিটি দেবেন তাহলে প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকবেনা।

৭. দরদাম করুন

পর্যটন স্থানগুলোতে জিনিসপত্রের দাম সব সময় উঠানামা করে মানে পর্যটক বেড়ে গেলে দাম বেড়ে যায়, লোক কমে গেলে দাম কমে যায়। তাই আপনি চাইলে দরদাম করে নিতে পারেন। খুব বেশী ক্রাইসিস না হলে কিছু সুবিধা পেয়েও যেতে পারেন।

৮. খোঁজ খবর দিয়ে কাজ করুন

ভ্রমণ পরিকল্পনার আগেই খোজখবর নিন কোন ট্যুর অপারেটর যৌক্তিক দাম অফার করে। আবার স্পটে গিয়েও খবর নিতে পারেন কোথায় জিনিসপত্রের দাম কেমন।

কারণ ট্যূরিজম এলাকার লোকজন কখনো আপনার সাথে সম্পর্কে তৈরীর কথা ভাববেনা। তারা নগদে আপনাকে খালি করে দেয়ার জন্য বসে থাকবে এটা পৃথিবীর সব জায়গায় হয়।

৯. অন্যকাজের সাথে মিলিয়ে নিন

যদি সম্ভব হয় আপনি কক্সবাজার শুধু ভ্রমনের জন্য না গিয়ে অন্য কাজের সাথে ট্যাগ করে নিন। ধরে নিন অফিসের কোনো কাজে কক্সবাজার যাবেন। সূতরাং সেইসাথে ২ দিনের ছুটি নেয় কক্সবাজার ভ্রমণ করতে পারেন।

হয়তো সবসময় সম্ভব হবে না। তবে অবশ্যই বিষয়টি আগে থেকে মাথায় রাখবেন। তা না হলে দেখা যাবে অন্য একজন ঠিকই সুযোগ নিলো আপনি ডিসেম্বরে কক্সবাজার যাবেন মনে করে বসে রইলেন।

১০. অন্যভাবে পোষানোর চেষ্টা করুন।

আপনি চাইলে সফরকে বিভিন্নভাবে পোষাতে পারেন। যেমন আপনি সুন্দরবন বেড়াতে গেলেন সেখান থেকে ৩০০ টাকা দামে ১০ কেজী মধু ‍নিয়ে আসলেন।

প্রতি কেজীতে ১০০ টাকা লাভ করে অফিসের কলিগ ও বন্ধুবান্ধবদের মাঝে বিক্রি করলেন, দেখাগেলো আপনি খরচের একটা অংশ সেখান থেকে তুলে নিলেন। তবে এক্ষেত্রে বিক্রি করতে পারবেন কিনা বা দাম তুলতে পারবেন কিনা সেটা আগেই ভেবে নেবেন।

১১. সরকারী রেস্ট হাউস ব্যবহার করুন

আপনি জানেন যে, বেসরকারী হোটেল মোটেল এর চেয়ে সরকারী গেষ্টহাউস ও বাংলোগুলোতে কম ভাড়ায় থাকা যায়। কোথায় ১০০ বা ২০০ টাকায়ও থাকতে পারবেন একরুমে।

এজন্য অবশ্যই আগে থেকে যোগাযোগ করে বুকিং দিয়ে যাবেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকারী রেফারেন্স দরকার হয়। যেমন আপনি যদি রেলওয়ের বাংলাতে থাকতে চান চট্টগ্রামে সেখানে হয়তো রেলওয়ের কারো রেফারেন্স প্রয়োজন হতে পারে। কখনো আগে থেকে যোগাযোগ না করে সরকারী হল পাবার আশা করবেন না।

১২. কমিউনিটি ট্যুরিজম এর সাহায্য নিতে পারেন

কম্যুউনিটি ট্যুরিজম হলো স্থাণীয় লোকজনের ট্যুরিজম সেবা। যেমন আপনি যদি সাজেক যেতে চান। সেখানে প্রধান হোটেলটির ভাড়া যেখানে প্রতিরাত ৫ হাজার টাকা সেখানে আপনি কোনো আদিবাসী বা উপজাতির বাসায় থাকলে আপনার ভাড়া পড়তে পারে ২০০ টাকা।

না ভয় নেই আদিবাসীরা ঘর ভাড়া দেয় তারা পর্যটকের উপযুক্ত করেই তাদের ঘরগুলো তৈরী করে রাখে। এবং তাদের ঘরে খাবারের ব্যবস্থাও থাকে।

এছাড়া আরো অনেক উপায় রয়েছে। তবে বিমান টিকেট আপনি যতদিন আগে কাটবেন তত দাম কম। আর যত ইলেভেন্থ আওয়ারে করবেন ততই দাম বেশী পড়বো।

এছাড়া কিছু কিছু খরচ আপনি নিজেই কমাতে পারেন। ক্যাম্প নিয়ে প্রাকৃতিক কোনো জায়গা ঘুরতে গেলে যদি নিরাপত্তার সমস্যা না থাকে তাহলে বাইরে রাত যাপন করতে পারেন। আর খাবার হালকা খেতে পারেন। সাথে করে কিছু শুকনো খাবার নিয়ে যেতে পারেন।

তথ্যসুত্র: ইন্টারনেট।

ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE