fbpx

ঘূর্ণিঝড় তিতলি: ১৯ জেলার সরকারি চাকুরেদের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল

ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’ মোকাবেলায় উপকূলীয় ১৯ জেলার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া।

বৃহস্পতিবার (১১ অক্টোবর) সচিবালয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’উপলক্ষে সার্বিক পরিস্থিতি ও প্রস্তুতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, আল্লাহর কাছে শুকরিয়া যে ঘূর্ণিঝড়টি সকালে ভারতের আঘাত হেনেছে। আমাদের এখানে আঘাত হানার আশঙ্কা ছিল। ঘূর্ণিঝড় তিতলির কারণে আমরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছি। পর্যাপ্ত ত্রাণও মজুদ রয়েছে।

উপকূলীয় জেলা বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, ঝালকাঠী, পিরোজপুর, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, খুলনা, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, ভোলা, চাঁদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, শরীয়তপুরের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

১৯ জেলার জেলা প্রশাসনকে ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয়ে নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র খোলা হয়েছে, সব সময় এসব জেলার সঙ্গে কর্মকর্তারা যোগাযোগ রাখছেন।

যেকোনো ধরনের দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য আমাদের শতভাগ প্রস্তুতি রয়েছে। ওই ১৯ জেলার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যদি আঘাত করে তাদের যেন নিরাপদে সেখানে নিতে পারি।

মন্ত্রী বলেন, ২৫ হাজার শুকনা খাবার প্রস্তুত রাখা হয়েছে, চাওয়া মাত্রই সেগুলো পাঠিয়ে দেয়া হবে। প্রত্যেক জেলায় ২০০ টন চাল মজুদ রয়েছে। এছাড়া টিন, নগদ টাকা ও শীতবস্ত্র আগেই ডিসিদের দিয়ে রেখেছি।

ঘূর্ণিঝড় তিতলির কারণে ১৯ জেলার প্রত্যেক ইউনিয়নে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা হয়েছে। সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের প্রায় শতভাগ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে সক্ষম হয়েছে বলেও জানান ত্রাণমন্ত্রী।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী বলেন, গত পাঁচ বছরে ত্রাণসামগ্রী নিয়ে এই মন্ত্রণালয়ে কোনো সময় দুই নম্বরি কাজ হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না।

তিনি আরও বলেন, কোনো দুর্যোগ এলে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে, এই দায়িত্ব শুধু সরকারের না, আওয়ামী লীগের না। যেহেতু আমরা সরকারি দল, তাই আমাদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব জনাব মো. শাহ্ কামাল, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমদ খান, আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক শামসুদ্দিন আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় তিতলি উড়িষ্যা থেকে আরও উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। এটি বাংলাদেশ উপকূলে আঘাত হানার ঝুঁকি কমে যাওয়ায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে চার নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত নামিয়ে তার

পরিবর্তে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একইসঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE