জেলের মধ্যে মেলামেশার সুযোগ করে দেন জেলার !

কঠোর নিয়মের বেড়াজালে বন্দিজীবন। শাস্তির কারণে সুখের কোনো জায়গা নেই। কিন্তু সে তো আইন মোতাবেক কথা। আইন যখন আছে, তার ফাঁকও আছে। আর সেই ফাঁক-ফোকর এমনভাবে কাজে লাগাল বিশ্বের বিভিন্ন জেলের বন্দিরা। কারাগারেই মিলছে তাদের যৌন সুখ। বাংলাদেশেও এর ব্যতিক্রম ঘটল না।

সম্প্রতি কারাগারে যৌন মিলনের সুযোগ করে দিচ্ছেন বাংলাদেশের জেলাররা। তার বিনিময়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন হাজার হাজার টাকা। দীর্ঘদিন সাজাপ্রাপ্ত ও কয়েদিদের স্ত্রীর সঙ্গে রাতযাপনের সুযোগ করে দেয়াসহ অবৈধভাবে টাকা কামানোর অপরাধে চট্টগ্রাম কারাগারের জেলার সোহেল রানা বিশ্বাসকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

ঐ জেলারকে দুইদিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত। রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে সোহেল রানাকে। ট্রেন থেকে মাদকদ্রব্য ও বিপুল পরিমাণ পরিমাণ টাকাসহ গ্রেফতার করা হয়েছে তাকে।

সোহেল রানা রিমান্ডে থাকা অবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ভৈরব রেলওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল মজিদ।

রিমান্ডে সোহেল রানা জানিয়েছেন ওই দিনের জব্দকৃত ৪৪ লাখ ৪৩ হাজার টাকার মধ্যে ১২ লাখ টাকা ছিল চট্টগ্রাম কারাগারের ডিআইজি প্রিজন পার্থ কুমার বণিক ও সিনিয়র জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিকের।

জব্দকৃত আড়াই কোটি টাকা ও ১ কোটি ৩০ লাখ টাকার চেকের উৎস সম্পর্কে সোহেল রানা বলেছেন টাকাগুলো কারাগারে মাদক ব্যবসাসহ অবৈধভাবে রোজগার করেছেন।

সোহেল পুলিশকে আরো বলেছেন চট্টগ্রাম কারাগারে অবৈধভাবে প্রতি মাসে আড়াই কোটি টাকা রোজগার হয়। এই টাকার অংশ হিসেবে মাসে ৪২ লাখ টাকা ভাগ পান সোহেল। বাকি দুই কোটি টাকা তার ঊর্ধ্বতন দুই বসকে দেয়া হয়। তবে ওই দুইজন ঊর্ধ্বতন বসের নাম বলেননি সোহেল।

কারাগারে অবৈধভাবে টাকা কামানোর বিষয়ে সোহেল পুলিশের কাছে জবানবন্দি দিয়ে বলেন, দীর্ঘদিন সাজাপ্রাপ্ত ও কয়েদিদের স্ত্রীর সঙ্গে রাতযাপনের সুযোগ করে দেয়া, ঠিকাদার অজিত নন্দির মাধ্যমে কাঁচা বাজারের সঙ্গে মাদক ঢুকিয়ে কারাগারের মাদকাসক্ত বন্দিদের কাছে উচ্চমূল্যে বিক্রি,

বন্দিদের বিশেষ সুবিধা দিয়ে অন্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করানো, কারাগারে ভালো রুমে কম বন্দিদের সঙ্গে আরামে রাখা, রিমান্ডের আসামিকে কষ্ট না দিয়ে ভালোভাবে রাখা, বেশি টাকা দিলে হাসপাতালে থাকার ব্যবস্থা করে দেয়া, সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের বিনাশ্রমে রাখা, বিনাশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের অপরিচ্ছন্ন কাজ করানোর ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়,

কারাগারের ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশে নিম্নমানের খাবার সরবরাহ, স্থানীয় বন্দিদের দূরের কারাগারে স্থানান্তরের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়, এমনকি খারাপ বন্দিদের দিয়ে ভালো বন্দিদের প্রতিদিন নির্যাতনের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করা হতো।

একই সঙ্গে জেলার সেহেল রানা বিশ্বাসের জবানবন্দির এসব বিষয় অস্বীকার করে চট্টগ্রাম কারাগারের ডিআইজি প্রিজন পার্থ কুমার বণিক বলেন, জেলার সোহেল একজন মাদকসেবী।

তার অভিযোগগুলো মিথ্যা, বানোয়াট ও কাল্পনিক। পুলিশের হাতে বিপুল টাকা নিয়ে গ্রেফতারের পর অসত্য কথা বলেছেন সোহেল। ওই টাকা এবং আমার বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ সঠিক নয়।

আপনি দেখেছেন কি?

প্রধানমন্ত্রীর কাছে মায়ের দুই কিডনি হারানোর বিচার চাইলেন রফিক

ভুল চিকিৎসায় নিজের মায়ের দুই কিডনি হারিয়ে ক্লিনিক্যালি ডেড হবার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার দাবি …

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE