fbpx

ঢাকা শহর বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে যত মানুষ মারা যাবে, তার কয়েক গুণ ….

ঢাকা শহর বড় ধরনের ভূমিকম্পের কবলে পড়লে ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে যত মানুষ মারা যাবে, তার কয়েক গুণ মারা যাবে আগুনে পুড়ে ও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে। কারণ ভূমিকম্পের পর গ্যাসের লাইনের পাইপে বিস্ফোরণ ঘটবে আর সেই আগুনে পুরো নগর দাউ দাউ করে জ্বলবে।

ভূগর্ভস্থ পানি ও আশপাশের নদী-জলাশয়ের পানিতে নগরে বন্যার সৃষ্টি হবে। উপড়ে পড়া বিদ্যুতের খুঁটির তারের সংস্পর্শে এসে পানিতে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হবে। সেই পানিতে পড়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যাবে মানুষ।

‘ভূমিকম্প মোকাবিলা: আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এক কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেছেন। আজ সোমবার রাজধানীর গুলশানের স্পেকট্রা কনভেনশন সেন্টারে এই কর্মশালার আয়োজন করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল ও সোশ্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক অ্যানহ্যান্স প্রোগ্রাম (সিপ)।

ভূমিকম্প, নগরের ঝুঁকি ও পরিণতি বিষয়ক আলোচনায় অধ্যাপক এ কে এম মাকসুদ কামাল বলেন, মিয়ানমারের আরাকান এলাকায় ৮ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্প হতে পারে। সেই কম্পন ঢাকায় ৯ তীব্রতার অনুভূত হতে পারে।

সে ক্ষেত্রে ঢাকা ও চট্টগ্রামের ৭২ হাজার ভবন ভেঙে পড়বে। টাঙ্গাইলের মধুপুরে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ঢাকায় তা ৯ তীব্রতার অনুভূত হবে। ঢাকা শহরের ৩৫ ভাগ মাটি লাল।

এই মাটির ওপর তৈরি ভবনের ক্ষয়ক্ষতি কম হবে। ৬৫ ভাগ মাটি নরম। ভূমিকম্প হলে নরম মাটির ওপর কম্পনের স্থায়িত্ব বেশি হবে এবং ক্ষয়ক্ষতিও বেশি হবে।

মাকসুদ কামাল বলেন, ঢাকায় বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে তাতে আধঘণ্টার মধ্যে উদ্ধারকাজ শুরু করা গেলে ৯০ শতাংশ মানুষকে বাঁচানো যাবে।

উদ্ধারকাজ শুরু করতে এক দিন লাগলে ৮১ শতাংশ, দুদিন লাগলে ৩৬ শতাংশ এবং তিন দিন লাগলে ৩৩ শতাংশ মানুষকে উদ্ধার করা সম্ভব হবে। উদ্ধারকাজ শুরু করতে যত বেশি বিলম্ব হবে মৃতের সংখ্যা তত বেশি বাড়বে।

ভূমিকম্প হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে করণীয় সম্পর্কে মাকসুদ কামাল বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সরবরাহ বন্ধের ব্যবস্থা থাকতে হবে। একই সঙ্গে উদ্ধারকাজ চালানোর জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে।

ডাউকি ফল্ট থেকে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হলে সিলেটের ৪১ শতাংশ ভবন ভেঙে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক মেজর শাকিল নেওয়াজ।

তিনি বলেন, নেপালের বাসাবাড়িতে গ্যাসের সিলিন্ডার ব্যবহার হওয়ার কারণে ক্ষয়ক্ষতি অপেক্ষাকৃত কম হয়েছে। ঢাকায় যে পরিমাণ গ্যাসের পাইপ লাইন ও রাসায়নিকের মজুত আছে, তাতে শহরজুড়ে আগুন জ্বলবে। নগরে বন্যার সৃষ্টি হবে। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মানুষ মারা যাবে। শহর অন্ধকারে ডুবে যাবে।

শাকিল নেওয়াজ আরও বলেন, ভূমিকম্পে মানুষ মারে না। মানুষ মরে মানুষের তৈরি অব্যবস্থাপনার কারণে। ভূমিকম্পের বিপর্যয় মোকাবিলায় বিল্ডিং কোড মেনে ভবন তৈরি করতে হবে। ঢাকার ৭৬ শতাংশ সড়ক সরু। এগুলো প্রশস্ত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে ঢাকার উত্তর সিটির মেয়র আনিসুল হক বলেন, ভূমিকম্প হবে, তা সেই ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি। কিন্তু এটা সত্য যেকোনো সময় হয়ে যাবে। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

আনিসুল হক ভূমিকম্প-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে ২০০ সদস্য নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল গঠনের জন্য কাউন্সিলরদের প্রতি আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে তিনি প্রতিটি বিদ্যালয় ও কলেজে সেমিনার আয়োজনের অনুরোধ জানান এবং সেই সেমিনারে তিনি নিজেও উপস্থিত থাকবেন বলে জানান।

মেয়র বলেন, ঢাকার দুই সিটি ও সিলেট সিটি করপোরেশনে ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় ৭৫০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫০ কোটি টাকা দিয়ে যন্ত্রপাতি কেনা হবে দুই বছরের মধ্যে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা সম্পর্কে জানতে চাইলে নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকায় বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে আক্রান্ত মানুষকে উদ্ধারের লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না।

উদ্ধারে যারা মূল ভূমিকা রাখবে সেই ফায়ার সার্ভিসের অস্তিত্ব থাকবে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ আছে। মাকড়শার জালের মতো ছড়িয়ে পড়া গ্যাসের পাইপ ফেটে বিস্ফোরণ ঘটবে।

সুতরাং পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য এখন থেকে নতুন করে গ্যাসের পাইপলাইনের বিস্তার ঘটানো বন্ধ করতে হবে। বাসাবাড়িতে রান্নার জন্য গ্যাসের সিলিন্ডারের ব্যবহারকে উৎসাহিত করতে হবে। ধীরে ধীরে ঢাকা শহরের বাসাবাড়িতে পাইপ লাইনের গ্যাসের ব্যবহার কমিয়ে আনতে হবে।

আপনি দেখেছেন কি?

বিস্কিটের প্যাকেটে এই বাচ্চা মেয়েটি কে জানেন?

ছোটবেলা থেকে দু’একবার হলেও নিশ্চয়ই পার্লে-জি বিস্কিট খেয়েছেন। অন্তত তিন-চার প্রজন্ম ভারতীয়দের ব্রেকফাস্ট থেকে শুরু …