fbpx

তারেক জিয়ার ভিডিও কনফারেন্স: আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য হবে কি?

বাংলাদেশে একটি ব্যতিক্রমধর্মী ঘটনা ঘটে গেলো গতকাল রোববার। গতকাল বিএনপি তাদের নমিনেশন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছে। সারাদেশ নিশ্চয়ই এই সংবাদে অত্যন্ত খুশি হয়েছে।

কারণ দেশে সকলের অংশগ্রহণে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া।

এর মধ্যেই বিএনপির সংশোধিত গঠনতন্ত্র নিয়ে আদালতের নির্দেশ ইসিতে পৌঁছে গেছে। আদালতের নির্দেশা অনুযায়ী, দুর্নীতিবাজদের দলের নেতৃত্বে থাকার সুযোগ রেখে সংশোধিত গঠনতন্ত্র গ্রহণ করা হবে না।

এছাড়া তারেক জিয়ার কোনো ধরনের বক্তব্য-বিবৃতি গণমাধ্যমে প্রচারিত হতে পারবে না বলেও আদালতের আদেশ আছে। গত ৭ই জানুয়ারি ২০১৫ সালে বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এক রিট আবেদনের শুনানিতে ‘পলাতক থাকা অবস্থায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার কোনো ধরনের বক্তব্য-বিবৃতি সব ধরনের গণমাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশ নিষিদ্ধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’ নিতে নির্দেশ দেন।

জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, আদালতের এই রায় অমান্য করে তারেক রহমান ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যে সাক্ষাৎকার গ্রহণ করলেন সেটা কি আইনসিদ্ধ? ইসি কেন আদালতের এই সকল স্পর্শকাতর রায় কার্যকর করতে বিলম্ব করছে? এক কথায় ইসিকে নিয়ে একটি প্রশ্ন তৈরি হয়েছে মানুষের মধ্যে। জনমনে এই প্রশ্নও জেগেছে, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার মতো অপরাধে দণ্ডিত অপরাধী কোন আইনে এমন কাজ সম্পন্ন করলো?

দেশের সাধারণ মানুষ আইন সম্পর্কে গভীর কোন জ্ঞান ধারণ করে না। কিন্তু কিছু কিছু বিষয় নিয়ে তারা সাদাচোখেই নিজেদের মতো করে ভেবে নেয়। এক ধরনের আবেগ নিয়ে তারা তাদের ইচ্ছাশক্তি প্রয়োগ করে।

আদালতের নিষেধ উপেক্ষা করে, তারেক জিয়ার মতো দণ্ডিত আসামির এই জাতীয় কাজে দেশের শাসন ব্যবস্থার উপর, বিচার ব্যবস্থার উপর জনগণের নেতিবাচক মন্তব্য করার সুযোগ সৃষ্টি হবে সেটাই স্বাভাবিক।

তাই উচিত প্রশাসনকে তার নিজ অবস্থানের কথা সকলকে জানিয়ে দেওয়া। যদি তারেক জিয়ার ভিডিও কনফারেন্স বৈধ হয় তাহলে সে তথ্যও জনগণের সামনে প্রকাশ করতে হবে।

কোনো রকম প্রভাব জাতীয় নির্বাচনে পড়ুক সেটা কেউ চায় না। যেহেতু একটি নির্বাচনের মূল উপজীব্য হলো দেশের মানুষ, তাই তাদের সামনে যে কোনো বিষয় পরিষ্কার করে তুলে ধরাই উত্তম।

একদিকে বিএনপির সংশোধিত গঠনতন্ত্র আদালত গ্রহণ করতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, তারেক জিয়ার যে কোনো বিষয় দণ্ডিত হবার কারণে প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জানিয়েছে, অন্যদিকে সারাদিন ব্যাপী সেই ব্যক্তির ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দলীয় প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার সারাদেশের মানুষ দেখেছে।

বিটিআরসি এর ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার যে ঘটনা সাধারণ মানুষ গতকাল দেখতে পেলো তার মাধ্যমে আইনকে অমান্য করার দুঃসাহস সাধারণের মাঝে জন্ম নেবে না এটা ভাবা অবান্তর।

তবে আইনের যদি এমন কোনো অধ্যায় থেকে থাকে, যে অধ্যায়ের বলে এমন কাজ অপরাধ বলে গণ্য হয় না তাহলে ভিন্ন কথা আর সেটা অবশ্যই জনগণের সামনে প্রকাশ করা উচিত বলেই মনে হয়। কোনো দিক দিয়েই জাতীয় নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হোক সেটা কারো কাম্য নয়।

লেখক: কলামিস্ট, সাধারণ সম্পাদক, দুর্জয় বাংলা সাহিত্য ও সামাজিক ফাউন্ডেশন

আপনি দেখেছেন কি?

শেখ হাসিনার নতুন চমক কী!

সায়েদুল আরেফিন: দেশ সেবার জন্যই রাজনীতিকগণ রাজনীতি করেন বলে দাবি করেন দুনিয়াজুড়ে। তাইতো তো তাঁদের …

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE