fbpx

থানায় মামলা না নিলে কী করবেন?

ফৌজদারি মামলার একটা বড় অংশের কার্যক্রম শুরু হয় থানায় এজাহার দায়েরের মধ্য দিয়ে। আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর কোনো নাগরিক থানায় মামলা করতে চাইলে পুলিশ বিনামূল্যে সে মামলা নিতে বাধ্য। কোনো কারণে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী থানায় মামলা নিতে না চাইলে সংক্ষুব্ধ নাগরিক কী করবেন? সে বিষয়টি তুলে ধরে হলো।

অপরাধ সংঘটনের পর বিচারপ্রার্থীর প্রথম কাজ হলো থানায় মামলা দায়ের করা। এর পর মামলা তদন্তের মাধ্যমে শুরু হয় বিচারকাজ। পুলিশ বিনামূল্যে সে মামলা নিতে বাধ্য। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, প্রভাবশালীদের চাপে থানার পুলিশ মামলা নিতে চায় না। মামলার বাদী তুলনামূলক দুর্বল হলে থানার পুলিশ এ ধরনের আচরণ করে থাকে বলে অভিযোগ শোনা যায়।

পুলিশ যদি মামলা নিতে নাই চায়, সে ক্ষেত্রে তাদের বাধ্য করার মতো কোনো সুযোগ আছে কি? হ্যাঁ, পুলিশের নির্লিপ্ততার বিরুদ্ধে ভিকটিম বা ভিকটিমের পরিবার প্রতিকার পেতে পারেন। পর্যায়ক্রমে সেগুলো নিয়ে আলোচনা করা যাক।

ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা: থানায় পুলিশ মামলা নিতে না চাইলে একজন ভালো আইনজীবীর পরামর্শক্রমে নিকটস্থ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করা যেতে পারে। এ প্রক্রিয়ায় মামলা করলে আদালতে সংশ্লিষ্ট থানাকে মামলাটি রুজুপূর্বক তদন্তের নির্দেশ দেবে এবং আদালতের এ নির্দেশ মানতে বাধ্য। অন্যসব পন্থার মধ্যে এটি সহজতর এবং এতে সময় কম অপচয় হবে, অর্থনীতিক ঝুঁকিও কমবে।

হাইকোর্টে মামলা: দ্বিতীয় প্রক্রিয়া হলো থানা পুলিশ মামলা নিতে না চাইলে হাইকোর্টে রিট দায়ের করে প্রতিকার চাওয়া যায়। রিট আবেদনে ভিকটিম বা তার পরিবার থানায় মামলা দায়েরের অনুমতি প্রদান ও আসামিদের গ্রেফতারের আদেশ প্রার্থনা করতে পারেন। হাইকোর্ট বিভাগ রায় প্রদান করলে পুলিশ রায় মানতে বাধ্য।

মানবাধিকার কমিশনে অভিযোগ: পুলিশ মামলা নিতে না চাইলে প্রতিকার চাওয়ার তৃতীয় মাধ্যম হলো জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। এ ছাড়া বেসরকারি মানবাধিকার কমিশনের কাছেও এ ধরনের অভিযোগ দেওয়া যায়। বিশেষ করে নারী নির্যাতন ও মানবিক বিষয়গুলো মানবাধিকার কমিশনের কাছে আবেদন করলে তাঁরা এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে পারেন।

নালিশি মামলা: নালিশি মামলার ক্ষেত্রে আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ প্রথমেই মামলা শুরু করে না। ম্যাজিস্ট্রেট আদালত পুলিশকে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে নেওয়ার জন্য আদেশ দেওয়ার পর পরবর্তী সময়ে মামলা পরিচালনা করবেন।

তাই নালিশি মামলার ক্ষেত্রে কেউ অভিযোগ দায়ের করে পরবর্তী শুনানির দিন যদি সংশ্লিষ্ট বাদী আদালতে হাজির না হয় কিংবা ঘটনা তদন্তের যদি অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত না হয়, তবে ম্যাজিস্টেট মামলাটি খারিজ করে দিতে পারেন। অভিযোগকারী চাইলে এর বিরুদ্ধে জজ আদালতে বা হাইকোর্টে যেতে পারেন।

করণীয়: পুলিশ থানায় কখনো মামলা নিতে না চাইলে বিচলিত হয়ে নিজেকে অসহায় ভাবার কোনো কারণ নেই। আইনানুযায়ী যে কেউই এ রকম পরিস্থিতিতে সরাসরি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গিয়ে নালিশি মামলা করে আইনের আশ্রয় প্রার্থনা করতে পারেন।

তবে আমাদের দেশের বাস্তবতায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অসহায় ও দরিদ্র বিচারপ্রার্থীরা থানায় আইনের আশ্রয় না পেলে পুলিশকে এড়িয়ে অজ্ঞতা, দীনতা ও নানাবিধ প্রতিবন্ধকতার দরুন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেন না।

জনগণের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে তাই এ ব্যাপারে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি দরিদ্র জনগোষ্ঠেীর জন্য সরকারের আইনি সহায়তা প্রদান কর্মসূচিও ব্যাপক পরিসরে বাড়লে উপকার পাবে সাধারণ মানুষ। আইনজীবি ইমাম হাসানের নিকট হতে যে কোন আইনি পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন ০১৬৩৪৭৬৪০৯৫।

লেখক: মোঃ এ. এইচ. ইমাম হাসান, ব্যারিস্টার -এট- ল্ (লিংকনস ইন, ইউকে), এ্যাডভোকেট, সুপ্রিমকোর্ট অফ বাংলাদেশ,লেকচারার, লন্ডন কলেজ অফ লিগাল স্টাডিজ (সাউথ)।

আপনি দেখেছেন কি?

জেনে নিন কম খরচে ঢাকায় শপিং করার জনপ্রিয় কয়েকটি স্থান

কম খরচে ঢাকায় শপিং করার বেশ কিছু স্থান রয়েছে । ছোট- বড় আমরা সবাই শপিং …