fbpx

দিনে দর্জি, রাতে খুনি; ৩০টি খুন!

চাঁদপুর জেলার সিরিয়াল কিলার রসু খাঁর কথা মনে আছে? সদর উপজেলার মদনা গ্রামের ছিঁচকে চোর রসু খাঁ প্রেমে ব্যর্থ হয়ে সিরিয়াল কিলার হয়ে ওঠে। ১০১ নারীকে হত্যার পর সন্ন্যাসী হওয়ার পরিকল্পনা করেছিল সে। আটকের পর পুলিশের কাছে মোট ১১ নারীকে হত্যার কথা স্বীকার করে রসু। বাংলাদেশের এই সিরিয়াল কিলারের চেয়েও ভয়ঙ্কর এক খুনিকে গ্রেফতার করেছে ভারতের মধ্যপ্রদেশ পুলিশ। নাম আদেশ খামরা।

তাকে দেখে বোঝার উপায় নেই। দিব্যি লোকটা সকাল থেকে দোকান খুলে দর্জিগিরির কাজ করে যেত। নিপাট ভদ্র মানুষ বলেই সকলে চেনে তাকে। কিন্তু এই লোকটা-ই যে একটা সিরিয়াল কিলার তা কেউ কখনও জানতে পারেনি।

তার খুনি পরিচয় সামনে আসে যখন আদেশ খামরাকে পুলিশ গ্রেফতার করে। আদেশ খামরা নামে এই দর্জির বিরুদ্ধে একটি দুটি নয়, ৩৩টি খুনের মামলা দায়ের হয়েছে।

ভোপালের এক ঘিঞ্জি এলাকায় একটা ছোট টেইলারিং-এর দোকান চালাত আদেশ। রাত হলেই কাঁধে কুড়ুল চাপিয়ে নেমে পড়ত খুনের নেশায়। আর তার প্রতিটি খুনেরই শিকার ট্রাক চালক এবং তাদের খালাসিরা। জানা গিয়েছে, ২০১০ সালে অমরাবতীতে প্রথম খুন করে আদেশ। এরপর নাসিকেও সে এক ট্রাক চালককে খুন করেছে বলে মধ্যপ্রদেশ পুলিশের দাবি।

গত কয়েক বছর ধরেই এমন ৩০টি খুনের কেসে নাজেহাল হয়ে যায় মধ্যপ্রদেশ পুলিশ। এই ঘটনায় খুন হওয়ারা সকলেই ছিল ট্রাক চালক। তদন্তে পুলিশ এটাও বুঝতে পারে খুনগুলো এক ব্যক্তিরই করা।

ভারতের সিরিয়াল কিলারদের তালিকায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খুন করেছে আদেশ। এর আগে কলকাতার রামান রাঘব ৪২ জনকে হত্যা করেছিলেন।

এরপর গত সপ্তাহে টানা তিনদিন অভিযান চালিয়ে উত্তরপ্রদেশের সাহসী এক নারী পুলিশ কর্মকর্তা ভারতের এই সিরিয়াল কিলারকে গ্রেফতার করেছেন সুলতানপুরের জঙ্গল থেকে। গ্রেফতারের পর আদেশ খামরা বলেছে, ‘কষ্টপূর্ণ জীবন থেকে চালকদের পরিত্রাণ দিতেই খুন করতো সে।’

ভোপাল পুলিশের মহাপরিদর্শক ধর্মেন্দ্র চৌধুরী বলেন, ৪৮ বছর বয়সী আদেশ খুব সহজেই মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপন করতে পারে। সে এটাকে ব্যবহার করে ট্রাক চালকদের বন্ধু বানাতো এবং ফাঁদে ফেলতো।

তার সহযোগীরা যখন ট্রাকের সবকিছু লুটে নিতো, তখন সে পাশে বসে রশি পেচিয়ে চালককে শ্বাসরোধে হত্যা করতো। তবে মাঝে মধ্যে বিষপ্রয়োগ করেও হত্যা করতো।

এছাড়াও আরো বেশ কিছু কৌশল অবলম্বন করতো সে। ট্রাক চালকদের ফাঁদে ফেলার জন্য সে মদ্যপান করাতো। পরে চালককে হত্যার পর নগ্ন করে লাশ টুকরা টুকরা করতো। পরে কোনো সেতুর নিচে অথবা পাহাড়ি রাস্তার পাশে বিভিন্ন এলাকায় ফেলে দিতো।

আদেশকে জিজ্ঞাসাবাদকারী এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘এভাবে মধ্যপ্রদেশ থেকে মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও ঝারখণ্ডে লাশের টুকরা পাওয়া যেতো।

এই টুকরাগুলো এক করে লাশ শনাক্ত করতে পুলিশকে প্রচণ্ড বেগ পেতে হতো। এই সংঘবদ্ধ চক্র ছিল অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। আমরা জানি কত মানুষকে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করেছে এই খুনিরা।

আপনি দেখেছেন কি?

প্রধানমন্ত্রীর কাছে মায়ের দুই কিডনি হারানোর বিচার চাইলেন রফিক

ভুল চিকিৎসায় নিজের মায়ের দুই কিডনি হারিয়ে ক্লিনিক্যালি ডেড হবার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার দাবি …