ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

‘নাইন-ইলেভেন’ যে ঘটনা পাল্টে দেয় বিশ্ব রাজনীতি

বিশ্ব রাজনীতির অনেক হিসেবে-নিকেশ বদলে দেয়া নাইন ইলেভেন আজ মঙ্গলবার (১১ সেপ্টেম্বর)। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী হামলার ১৭তম বার্ষিকী। ২০০১ সালের এই দিনে, সন্ত্রাসীরা যাত্রীবাহী চারটি বিমান ছিনতাই করে একযোগে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, পেনসিলভানিয়া ও সামরিক সদর দপ্তর পেন্টাগনে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা।

এ হামলায় নিহত হন ৩ হাজারেরও বেশি মানুষ। আহত হন ১০ হাজার। নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিকও ছিলেন। এ হামলার জন্য আল কায়েদা জঙ্গিদের দায়ী করে পরে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে হামলার ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। একটি ঘটনাই পাল্টে দেয় বিশ্ব রাজনীতি। মধ্যপ্রাচ্যে আজ যে দুর্দশা তার জন্য অনেকেই নাইন ইলেভেনকে দায়ী করেন। তা ছাড়া, এর প্রভাব পড়ে সারা বিশ্বের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসীরা চারটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে। মাত্র ১৯ জন সন্ত্রাসী এই চারটি বিমান ছিনতাই করে সেগুলোকে গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্রে পরিণত করে এবং জন্ম দেয় ইতিহাসের ভয়াবহতম অধ্যায়ের। দুটি বিমান আঘাত হানে নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ার নামে পরিচিত দুটি ভবনে। দুই ঘণ্টার মধ্যে ভবন দুটি মাটিতে ধসে পড়ে।

আর তৃতীয় বিমানটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তর পেন্টাগনে আঘাত হানে। এ হামলায় ভবনের পশ্চিম পাশের কিছু অংশ ধসে পড়ে। চতুর্থ বিমানটির লক্ষ্য ছিল ওয়াশিংটনে হামলার। কিন্তু যাত্রীদের প্রতিরোধের সময় বিমানটি পেনসিলভানিয়ায় বিধ্বস্ত হয়।

জনপ্রিয় খবরগুলো পড়ুন :-

আজও সেই বিভীষিকাময় স্মৃতি তাড়িয়ে বেড়ায় নাইন ইলেভেন বেঁচে ফিরে আসা ভাগ্যবানদের। নিহতদের স্মরণে এবারো জানানো হচ্ছে শ্রদ্ধা। শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার এ রুটিনওয়ার্ক প্রতি বছর অব্যাহত থাকলেও আজ অবধি জানা যায়নি এ হামলার ঘটনার প্রকৃত রহস্য। ফলে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি কী ছিল নাইন-ইলেভেনের উদ্দেশ্য। আর এ ঘটনার মধ্য দিয়ে আক্রমণকারীরা আমেরিকাকে কী বার্তাই বা দিতে চেয়েছিল।

ঘটনার তিন বছর পর মার্কিন গোয়েন্দা বাহিনী হামলার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করলেও এর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি ফাঁকি দিয়ে কীভাবে এই হামলা হল তার আজও কোনো সদুত্তর মেলেনি। অর্থাৎ এই ঘটনা নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক ও সমালোচনা রয়েছে সমগ্র বিশ্বে।

ইরানের দাবি, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে হামলা চালানোর লক্ষ্যে গোয়েন্দা কারসাজি করে এই নাটক সাজানো হয়েছে। হামলার মূল হোতা হিসেবে অভিযুক্ত আল কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেনকে ২০১১ সালের ২ মে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে গোপন অভিযান চালিয়ে হত্যা করে মার্কিন নেভি সিল।

নাইন-ইলেভেনের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি রোষানলের শিকার হয়েছে মুসলমানরা। তাদের প্রতি সবসময় অভিযোগের তীর ছোঁড়া হয়েছে। যদিও এর পেছনে শক্তিশালী কোনো যুক্তি এখনো উপস্থাপন করা হয়নি। প্রসঙ্গত, নিউইয়র্কে সন্ত্রাসী হামলার স্থলে নির্মিত হয়েছে ন্যাশনাল সেপ্ট. ইলেভেন মেমোরিয়াল অ্যান্ড মিউজিয়াম।

ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন
Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE