fbpx

পা দিয়ে লিখে পরীক্ষা দেয় অদম্য সিয়াম

দুই হাত নেই। বাম পা দিয়ে লিখে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা দিচ্ছে অদম্য সিয়াম। ইচ্ছা আর মনোবল নিয়েই এগুতে চায় সে। জন্মের পর থেকে দুটি হাতবিহীন জীবন সংগ্রামে নেমেছে হতদরিদ্র পরিবারের প্রতিবন্ধী এই শিশুটি। মনে বিন্দুমাত্র নেই কোনো হতাশা। হতে চায় সে সরকারি বড় কোনো কর্মকর্তা।

সরিষাবাড়ী উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের উদনাপাড়া গ্রামের দিনমজুর দম্পতির জিন্না মিয়া ও জোসনা বেগমের ছেলে সিয়াম। তাদের তিন সন্তানের মধ্যে সিয়াম ছোট। জন্ম থেকেই তার দুটি হাত নেই।

কিন্তু থেমে নেই তার পড়ালেখা ও খেলাধুলা। সে এবার ডোয়াইল ইউনিয়নের উদনাপাড়া ব্র্যাক শিশু নিকেতন স্কুল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।

আজ সোমবার সকালে স্থানীয় মহেশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পা দিয়ে লিখে বাংলা পরীক্ষা দিতে দেখা গেছে তাকে। পরীক্ষা শেষে সিয়ামের সাথে কথা বলে জানা যায় তার অদম্য ইচ্ছার কথা।

পা দিয়ে লিখে পরীক্ষা দেওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সিয়াম বলে, ‘আমার দুই হাত না থাকলেও তাতে আমার কোনো সমস্যা হয় না। পা দিয়ে লিখতে লিখতে আমার অভ্যাস হয়ে গেছে। আমার সব কাজ আমি নিজেই করতে পারি। আমি লেখাপড়া করতে চাই। লেখাপড়া করে সরকারি বড় একটা কর্মকর্তা হতে চাই। কর্মকর্তা হয়ে দেশের সেবা করতে চাই।’

সিয়ামের মা জোসনা বেগম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘লেখাপড়ার জন্য সিয়ামকে কখনো বলতে হয় না। নিজের ইচ্ছায় সব সময় পড়ালেখা করে। কিছু কিছু কাজ ছাড়া সব কাজ নিজেই করতে পারে। সাঁতার কাটা থেকে শুরু করে খেলাধুলাও করতে পারে।

অর্থের অভাবে ছেলেকে কখনো ভালো কিছুই খাওয়াতে বা পরাতে পারি না। ওর নামে একটা প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড পেয়েছি। সেই টাকায় কিছুই হয় না। সরকারি ভালো কোনো সহায়তা না দিলে সিয়ামের পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না।

এ ব্যাপারে উদনাপাড়া ব্র্যাক শিশু নিকেতনের প্রধান শিক্ষিকা জাকিয়া সুলতানা জানান, সিয়াম প্রথম শ্রেণি থেকেই তাদের স্কুলে পড়ালেখা শুরু করে। পরিবারের অর্থনৈতিক সংকটের কারণে মাঝ পথে বন্ধ হয়ে যায় তার পড়ালেখা।

প্রতি মাসে ২৫০ টাকা বেতনও দিতে পারতো না। পরে পরিবারের সাথে কথা বলে বেতন মওকুফ করে আবার পড়ালেখার ব্যবস্থা করা হয়। পড়ালেখার পাশাপাশি সে সব ধরনের খেলাধুলায় পারদর্শী। অন্যান্য শিক্ষার্থীর চেয়ে তার মেধা ভালো। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি বা সরকারি কোনো সহায়তা পেলে সে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারবে।

এ ব্যাপারে সরিষাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছে সেটা আমার জানা ছিলো না। আমি খোঁজ নিয়ে তার সহায়তার বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

আপনি দেখেছেন কি?

আপন দুই ভাই একসঙ্গে বিসিএস পুলিশ ক্যাডার!

৩৪তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে নিয়োগ পেয়েছিলেন আপন দুই ভাই। তবে এরকম ঘটনা বাংলাদেশ পুলিশের ইতিহাসে …