ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

ফেরাউনের মমিতে নতুন যে রহস্য খুঁজে পেয়েছে বিজ্ঞানীরা

মমি। ছোট্ট একটা শব্দ। কিন্তু তারই মধ্যে অমোঘ রহস্যের হাতছানি। হাজার হাজার বছর আগেকার পৃথিবীর দিনকাল ভেসে ওঠে চোখের সামনে।

সেই সঙ্গে অবধারিত অতিলৌকিক সব আখ্যান। তুতেনখামেনের অভিশপ্ত মমি হোক বা অন্য ফারাওদের মমি— সাধারণ মানুষদের পাশাপাশি গবেষকদেরও কৌতূহলের শেষ নেই। এ নিয়ে নতুন নতুন আবিষ্কারও তাই হয়ে চলেছে।

সম্প্রতি এক বহু পুরনো মমিকে ঘিরে নতুন আবিষ্কারের কথা উঠেছে এসেছে সামনে। তাতে বলা হয়েছে, ফারাওদের আগেও মমি প্রথা চালু ছিল প্রাচীন মিসরে! চাঞ্চল্যকর এই খবরে স্বাভাবিকভাবেই উত্তেজিত কৌতূহলী মানুষরা।

আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘লাইভসায়েন্স.কম’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, গত শতাব্দীর শুরুতে ওই মমিটি পাওয়া গিয়েছিল।

১৯০১ সাল থেকে ইতালির তুরিন মিউজিয়ামে সংরক্ষিত রয়েছে মমিটি। মোটামুটি ৩৭০০ থেকে ৩৫০০ খ্রিষ্ট পূর্বাব্দের সময়ের ওই মমিটি সম্পর্কে এতদিন সকলের ধারণা ছিল, এটি কৃত্রিমভাবে সংরক্ষিত হয়নি।

কোনো দুর্যোগের পরে মরুভূমিতে প্রাকৃতিকভাবেই ওই দেহটি সংরক্ষিত হয়ছিল। কিন্তু গবেষকরা এখন জানতে পেরেছেন, ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সী ওই যুবকের দেহটিকে কৃত্রিমভাবেই সংরক্ষণ করা হয়েছিল।

স্বাভাবিকভাবেই এমন আবিষ্কারে মমির ইতিহাস নিয়েই নতুন করে ভাবতে হচ্ছে গবেষকদের। কেননা, গবেষকদের এই দাবির অর্থ, এতদিনের জানা সময়েও ১ হাজার বছর আগেই এই বিদ্যা আয়ত্ত করেছিল মিসরের মানুষ।

সম্প্রতি ‘জার্নাল অব আর্কিওলজিক্যাল সায়েন্স’-এ প্রকাশিত হয়েছে গবেষণাপত্রটি। ওই গবেষক দলের অন্যতম গবেষক অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বাসিন্দা জানা জোন্স জানিয়েছেন, মমিটির ডান কবজি, ধড় খুঁটিয়ে পরীক্ষা করার পরে বোঝা গেছে সেটিকে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

পাশাপাশি পরীক্ষা করা হয়েছে দেহের সঙ্গে থাকা ব্যাগটিও। তাতে দেখা গেছে, জৈব তেল, প্রাণিজ চর্বি ও আরো বহু পদার্থের প্রলেপ দিয়ে কাপড়ে মোড়ানো হয়েছিল দেহটি। উদ্দেশ্য অবশ্যই সংরক্ষণ।

ওই মমিটি এত প্রাচীন, যখন লেখার ভাষাও আবিষ্কৃত হয়নি। সম্ভবত মুখে মুখেই ওই সংরক্ষণের প্রক্রিয়া প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বাহিত হয়েছে।

গবেষকরা জানিয়েছেন, ওই সময়ের মানুষের মধ্যে মরণোত্তর জীবন সম্পর্কে অটুট বিশ্বাস ছিল। তারা চাইত দেহটি সংরক্ষণ করতে। আর সংরক্ষণের পদ্ধতিও তারা আবিষ্কার করে ফেলেছিল।

কবেকার এক যুবকের শরীর এইভাবেই প্রাচীন পৃথিবীর দরজা আচমকাই যেন খুলে দিয়েছে বিজ্ঞানীদের সামনে। তারা বিস্মিত হয়ে লক্ষ করছেন, সেই সুদূর অতীতেও মানুষ চারপাশের প্রাকৃতিক উপাদানকে কাজে লাগিয়েই কীভাবে দেহ সংরক্ষণের আশ্চর্য পদ্ধতি আবিষ্কার করেছিলেন।

ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE