fbpx

বাথরুমের পানির ছিটা শরীর বা কাপড়ে লাগলে কি নাপাক হবে?

বাসা, অফিস বা কর্মস্থলে থাকাকালীন নামাযের সময় হলে আমরা সাধারণত বাথরুমেই অযু করি, হাত মুখ ধুই, প্রাকৃতিক প্রয়োজন থেকে পবিত্রতা অর্জন করি। এসময়, পানির ছিটা স্বাভাবিকভাবে কাপড়ে লেগেই যায়। অনেকেরই প্রশ্নটি জাগে যে, এমতাবস্থায় ঐ কাপড় পড়ে নামায বা অন্য কোন ইবাদত করা যাবে কি?

উত্তরঃ

বাথরুমের ফ্লোর যদি নাপাক থাকে তবে ফ্লোর থেকে ছিটে আসা পানি শরীর বা কাপড়ে লাগলে তা নাপাক হয়ে যাবে। আর ফ্লোর পাক থাকলে কোন সমস্যা নেই।

উল্লেখ্য যে, সাধারণত উযূ, গোসল বা পাক কাপর চোপড় ধৌত করার দ্বারা ফ্লোর নাপাক হয় না। তবে অপবিত্র কিছু ধৌত করলে ফ্লোর নাপাক হয়ে যায়। এরপর নাপাকীর কোন আছর না থাকলে, ফ্লোর শুকিয়ে গেলে অথবা কিছু পানি প্রবাহিত করে দিলে এবং (ফ্লোর একদিকে ঢালু হওয়ায়) তা গড়িয়ে নালা দিয়ে পড়ে গেলেও ফ্লোর পাক হয়ে যাবে।

অনুরূপভাবে প্রাকৃতিক প্রয়োজন শেষে পানি ব্যবহারের সময় নাপাকী মিশ্রিত পানি শরীর বা কাপড়ে লাগলে তা নাপাক হয়ে যাবে। তবে নাপাকী ধোয়া হয়ে যাবার পর পানি ছিটে এলে সমস্যা নেই। এসময় নাপাকী মিশ্রিত পানির ছিটা থেকে খুব সহজেই বাঁচা যায়।

প্রথমেই উত্তমরূপে টিস্যু ব্যবহার করে এরপর নাপাকী থাকা অবস্থায় একটু সতর্কতার সাথে পানি ব্যবহার করলেই কোন সমস্যা হয় না। আর পানির ছিটা লাগলেও পায়ের নিচের দিকে লাগে। যা পরে ধৌত করে নিলে হয়ে যাবে।

আর হাই কমোড হলে সতর্ক থাকতে হবে যেন নিচ থেকে নাপাক পানির ছিটা না আসে। ছিটা আসলে সতর্কভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে। স্প্রেয়ার দিয়ে পানি ব্যবহারের সময়ও খেয়াল রাখতে হবে যেন স্পীডের তীব্রতার কারণে পানি কোনভাবে নাপাকিসহ পেছন দিক থেকে পিঠের দিকে উঠে না আসে। নাপাকি ধোয়া হয়ে যাওয়ার পর পানি ছিটে এলে সমস্যা নেই।

মাসআলা সুত্রঃ সহীহুল বুখারী, হাদীস নং ১৭৪; হালবিয়ে কাবীর, পৃষ্ঠা ১৫২

জনপ্রিয় খবরগুলো পড়ুন :-

এই সূরা প্রতি রাতে পাঠ করলে কখনোই দরিদ্রতা স্পর্শ করবে না

অন্তিম রোগশয্যায় আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)— এর শিক্ষাপ্রদ কথোপকথনঃ ইবনে—কাসীর ইবনে আসাকীরের বরাত দিয়ে এই ঘটনা বর্ণনা করেন যে, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) যখন অন্তিম রোগশয্যায় শায়িত ছিলেন, তখন আমীরুল মু’মিনীন হযরত ওসমান (রাঃ) তাঁকে দেখতে যান৷ তখন তাঁদের মধ্যে শিক্ষাপ্রদ যে কথোপকথন হয় তা নিম্নরুপঃ-

→হযরত ওসমানঃ ما تشتكي আপনার অসুখটা কি?

→হযরত ইবনে মাসউদঃ ذنوبي আমার পাপসমূহই আমার অসুখ৷

→ওসমান গণীঃ ما تشتهي আপনার বাসনা কি?

→ইবনে মাসউদঃ رحمة ربي আমার পালনকর্তার রহমত কামনা করি৷

→ওসমান গণীঃ আমি আপনার জন্যে কোন চিকিৎসক ডাকব কি?

→ইবনে মাসউদঃ الطبيب امرضني চিকিৎসকই আমাকে রোগাক্রান্ত করেছেন৷

→ওসমান গনীঃ আমি আপনার জন্যে সরকারী বায়তুল মাল থেকে কোন উপটৌকন পাঠিয়ে দেব কি?

→ইবনে মাসউদঃ لاحاجة لي فيها এর কোন প্রয়োজন নেই৷

→ওসমান গণীঃ উপটৌকন গ্রহণ করুন৷ তা আপনার পর আপনার কন্যাদের উপকারে আসবে৷

→ইবনে মাসউদঃ আপনি চিন্তা করছেন যে, আমার কন্যারা দারিদ্র ও উপবাসে পতিত হবে৷ কিন্তু আমি এরুপ চিন্তা করি না৷ কারণ, আমি কন্যাদেরকে জোর নির্দেশ দিয়ে রেখেছি যে, তারা যেন প্রতিরাত্রে সূরা ওয়াক্কিয়া পাঠ করে৷

আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃ)— কে বলতে শুনেছি,
من قرأ سورةالواقعة كل ليلة لم تصبه فاقة ابدا”
অর্থাৎ, যে ব্যক্তি প্রতি রাতে সূরা ওয়াক্কিয়া পাঠ করবে, সে কখনও উপবাস করবে না৷

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ [রা.] বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতিদিন রাতে সুরা ওয়াক্বিয়াহ তেলাওয়াত করবে তাকে কখনো দরিদ্রতা স্পর্শ করবে না। হজরত ইবনে মাসউদ [রা.] তাঁর মেয়েদেরকে প্রত্যেক রাতে এ সুরা তেলাওয়াত করার আদেশ করতেন। [বাইহাকি:শুআবুল ঈমান-২৪৯৮]

সুরা আর রাহমান, সুরা হাদিদ ও সুরা ওয়াকিয়া’র তেলাওয়াতকারীকে কেয়ামতের দিন জান্নাতুল ফিরদাউসের অধিবাসী হিসেবে ডাকা হবে।

অন্য এক হাদিসে আছে, সুরা ওয়াকিয়াহ হলো ধনাঢ্যতার সুরা, সুতরাং তোমরা নিজেরা তা পড় এবং তোমাদের সন্তানদেরকেও এ সুরার শিক্ষা দাও। অন্য এক বর্ণনায় আছে: তোমাদের নারীদেরকে এ সুরার শিক্ষা দাও। আম্মাজান হজরত আয়েশা [রা.] কে এ সুরা তেলাওয়াত করার জন্য আদেশ করা হয়েছিল।

তাছাড়া অভাবের সময় এ সুরার আমলের কথাটা তো হাদিস দ্বারাই প্রমানিত। এমনকি বর্ণিত আছে যে হজরত ইবনে মাসউদ [রা.] কে যখন তার সন্তানদের জন্য একটি দিনারও রেখে না যাওয়ার কারণে তিরস্কার করা হলো তখন তিনি উত্তরে বলেছিলেন, তাদের জন্য আমি সুরা ওয়াকিয়াহ রেখে গেলাম। [ফয়জুল কাদির-৪/৪১]

সুবহানাল্লাহ! মহান রাব্বুল ইজ্জতের পবিত্র কালামের বরকত কত পাওয়ারফুল আপনি-আমি তা অনুধাবন করতে পারি কি?

তাই আসুন সকলে সূরা ওয়াক্কিয়া পাঠের এই অতি মূল্যবান আমলটি প্রতিদিন আদায় করার চেষ্টা করি৷ আল্লাহ আমাদের প্রত্যেককে আমল করার তাওফিক দিন৷

আপনি দেখেছেন কি?

হযরত মোহাম্মদ (সা.) এর শাফায়াত ছাড়া জান্নাতে যাওয়া যাবে কি?

ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’য় দর্শকের প্রশ্ন হাশরের ময়দানে মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) এর শাফায়াত …