fbpx

মাথার পেছনটায় ‘আলু’ হয়ে আছে: শাওন

গতকাল সারাদিন দুইবোন একা একা সময় কাটিয়েছি। দুইজন আবার একা হয় কি করে…? একথা যারা ভাবছেন তাদের বলছি, ”পরিচিতদের হাত থেকে কোনোরকমে পালিয়ে টরন্টোর ডাউনটাউনের ভিড়কে অগ্রাহ্য করে যখন এলোমেলো হেঁটে বেড়িয়েছি দুইবোন, তখন মনে হয়েছে পুরো পৃথিবীতে আমরা একা…।”

আমরা ছোটবেলার কথা মনে করে হাসলাম। কোনো এককালের মন কষাকষির কথা বলতে গিয়ে একসাথে কাঁদলাম। এ সময়ের আলোড়ন সৃষ্টি করা ভূতের ছবি ‘NUN’ দেখতে দেখতে হলের মধ্যে ঘুমিয়েও পড়লাম। ছোটবোনের অ্যাপার্টমেন্টের ব্যালকনিতে বসে ১০ ডিগ্রী তাপমাত্রার ঠাণ্ডায় কাঁপতে কাঁপতে রাতের খাবার খেলাম।

কষ্ট করে বোনের বানানো কফির কাপ টেবিলের কোনা থেকে ফেলে কাপ তো ভাঙলামই- তারপর মেহমানগিরি বাদ দিয়ে ছোটবোনের সাথে হাত লাগিয়ে সারাঘরে ছড়ানো কফি আর ভাঙা কাঁচ পরিষ্কারও করলাম। এরপর আয়েশ করে বিছানায় শুয়ে পান মসলা চিবাতে চিবাতে দুইজনে মিলে অক্ষয় কুমার এর ‘PADMAN’ ছবিখানা দেখে ফেললাম।

কাল সারাদিন নিজেদের মতো কাটিয়ে আজকের সকালটা খুব সুন্দর লাগছিল তাই। কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই দু’দিনের জন্য চলে এসেছিলাম টরন্টো, বোনটাকে দেখতে। মাত্র ২ দিন! তাও মনে হলো অনেককিছু নিয়ে গেলাম- অনেক উপদেশ(!) দিয়েও গেলাম।

আজ রাত ৮.২৫ এ নিউইয়র্ক ফেরার ফ্লাইট। ২ দিনে হাজার দুয়েক উপদেশ শুনে রাগতো এবং আমার ফিরে যাবার শোকে কাতর বোনকে পিছে রেখে Uber এ উঠে রওনা হলাম। হাইওয়ে ধরে চলছিল গাড়ি, বাইরে হালকা ঝিরিঝিরি বৃষ্টি- আমি বাইরে তাকিয়ে আকাশচুম্বি দালানে একটা একটা করে রাতের আলো জ্বলে ওঠা দেখছি। আমার গাড়িচালক রেডিওতে তার দেশি (খুব সম্ভবত Caribbean) কোনো এক বিরহের গান ছেড়ে রেখেছে।

হঠাৎ মাথায় শক্ত কোনোকিছুর আঘাত অনুভব করলাম। কয়েক মুহূর্তের জন্য বুঝি চোখের সামনে সব অন্ধকার হয়ে গেল। চোখ খোলার পর দেখলাম আমার বাহন মাটি থেকে কয়েক ইঞ্চি উপরে শূন্যে উড়ে গিয়ে আমাদের সামনে চলা শান্তশিষ্ট এক গাড়ির গায়ে বিস্ময়কর সাফল্যের সঙ্গে দুড়ুম করে পড়ল। আমি চোখ বন্ধ করে ফেললাম। আশপাশে হইচই- পুলিশের সাইরেন, কানের কাছে কে যেন বারবার বলছে” is the passenger alright?” “Ma’am will you plz get down and go to the hospital emergency with us?”

আমার মাথায় তখন একটা কথাই ঘুরছে- ফ্লাইট মিস করা যাবে না। আমি তখনও জানি না যে এই দুর্ঘটনার মূল হোতা আমার পেছনের বৃদ্ধ চাইনিজ ভদ্রলোকের চালানো গাড়ি। তার গাড়ি ভারসাম্য হারিয়ে আমার বাহনে তুমুল ধাক্কা দেয়, যার ফলাফল স্বরূপ আমার Uber খানা কিছুক্ষণের জন্য ‘উড়াও’ সার্ভিসে পরিণত হয়। এক ঘণ্টা ৩ গাড়ির ড্রাইভাররা নিজেদের মধ্যে দরবার করলেন- পুলিশ ভাইদের সাথে কাগজ আদান প্রদান করলেন।

আমার প্রবল অাপত্তির কারণে হাসপাতালে যাওয়ার হাত থেকে মুক্তি পেলাম আমি। প্রায় দৌড়াতে দৌড়াতেই এয়ারপোর্ট ইমিগ্রেশন পার করে নিউইয়র্কের প্লেনে চেপে বসলাম। ইসসস! মাথার পেছনটায় একটা আলু হয়ে আছে। চেক ইন কাউন্টারের হাস্যমুখী তরুণী আমার দুর্ঘটনার কথা শুনে এয়ারক্রাফটের পেছনের দিকের পাশাপাশি তিনটা সিট দিয়ে দিল! “You must lie down & take some rest” আমি বাধ্য মেয়ের মতো শুয়ে পড়লাম। ‘বাচ্চাদু’টার কারণে হয়তো এতো ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফিরে এসেছি’ একথা ভাবতে ভাবতে চোখ লেগে এলো। ‘অনেক উপর থেকে পড়ে যাচ্ছি- পড়ছি তো পড়ছিই’ এরকম এক দুঃস্বপ্ন দেখে ধরফরিয়ে উঠলাম। ওমা! দেখি ফ্লাইটের সবাই ভিত সন্ত্রস্ত হয়ে নিচু গলায় কথা বলছে। আমি উঠে বসে কান পাতলাম।

স্বপ্নে উঁচু জায়গা থেকে পড়ে যাওয়া দেখার মতো করেই প্লেন হঠাৎ হঠাৎ অতি উপরে উঠে যাচ্ছে আবার হঠাৎ করেই নিচে নেমে যাচ্ছে। ঘড়িতে তাকিয়ে দেখি রাত ১১টা! অথচ নিউইয়র্কে যে রাত ১০টার মধ্যে পৌঁছানোর কথা। পাইলটের বক্তব্য থেকে যা বুঝতে পারলাম- তুমুল বজ্রপাত এবং ঝড়ের কারণে অনেক চেষ্টা করেও নিউইয়র্কে অবতরণের অনুমতি মিলছে না এয়ারক্রাফট এর। LaGuardia Airport এর ওপর চক্কর কাটছে আমাদের প্লেন। এয়ারক্রাফট এর ফুয়েলও শেষ হওয়ার পথে। সিদ্ধান্ত জানালো পাইলট- ফিরে যাওয়া হচ্ছে টরন্টোতে! পরদিন আবহাওয়া ভালো হলে নতুন করে ফ্লাইটের সময় নির্ধারণ করা হবে।

মানে কি! আবার টরন্টো ফিরে যেতে হবে! পরবর্তী ফ্লাইটের কোনো নিশ্চয়তা নেই! পরদিন যে আমার অনেকগুলো ব্যস্ততা। আবহাওয়াজনিত কারণে ফ্লাইট ফিরে আসায় এয়ারলাইনস কোনো কিছুর দায়িত্ব নেবে না। আমার পরিচিত সবাই থাকে অন্তত এক দেড় ঘণ্টার দূরত্বে!

টরন্টো ফিরে যেতে যেতে রাত বেজে গেল ১২টা। কখন ফিরতে পারব তা জানার জন্য ভোর ৪টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। অপেক্ষা করার মতো জুতসই কোনো জায়গা পাচ্ছি না, সব খাবার দোকান বন্ধ- এমনকি কফির কোনো দোকানও চোখে পড়ছে না! আর আঘাত পাওয়ার কারণে হওয়া মাথার আলুটাও বারবার নিজের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।

অক্টোবর ২, রাত ১২টা। Toronto Pearson Airport। হ্যাঁ… এই ছিল আমার গতকাল রাতের অবস্থা। ভোগান্তি আমার পিছু ছাড়ে না। ভুল বললাম- ভোগান্তি আমাকে ভালোবাসে, আমার জন্য তার পেট পুড়ে…। (ফেসবুক পেইজ থেকে সংগৃহীত)

আপনি দেখেছেন কি?

দাদি হলেন মমতাজ

জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী মমতাজ দাদি হলেন। তার পুত্র মেহেদী খান মেয়ে সন্তানের বাবা হয়েছেন। আর এই …