fbpx

রিয়াদ পার্কে এক মাস পড়ে থাকা অন্ধ বাংলাদেশী ফজলুল আর নেই

অবশেষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের পার্কে এক মাস ধরে পড়ে থাকা মানসিক প্রতিবন্ধী ঢাকার কেরানীগঞ্জের ফজলুল হক।

গত ২৮ আগস্ট ‘রিয়াদের পার্কে এক মাস ধরে পড়ে আছেন অন্ধ বাংলাদেশি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর সেখানে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা নিজেদের উদ্যোগে তাকে সেখানকার সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করান। হাসপাতালে এক মাস চিকিৎসাও নেন। কিন্তু তার শেষ ইচ্ছা আর পূরণ হলো না।

জাগো নিউজকে তিনি সেসময় জানিয়েছিলেন, ‘দেশে তার অসুস্থ মা রয়েছেন। তাকে একবার দেখাই তার শেষ ইচ্ছা।’ কিন্তু সে ইচ্ছা পূরণ হওয়ার আগেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন স্ত্রী-সন্তানের কাছ থেকে আঘাত পাওয়া অন্ধ ফজলুল হক।

জাগো নিউজের সৌদি আরব প্রতিনিধি জানান, সাবেক কর্মী ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহায়তায় ফজলুল হককে দেশে পাঠানোর জন্য সব ব্যবস্থা নেয়া হয়।

কিন্তু এর মধ্যে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে রিয়াদে সরকারি হাসপাতাল ছোমেছিতে ভর্তি করা হয়। এক মাস তার চিকিৎসাও চলে। সেখানেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

বর্তমানে তার মরদেহ ছোমেছি হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। ঢাকা কেরানীগঞ্জের ফজলুল হক পরিবারের অভাব-অনটন দূর করতে সাত বছর আগে পাড়ি জমান সৌদি আরবে।

মেধা আর দক্ষতা দিয়ে সেখানে খুব অল্প সময়ে নিজেই রঙের কাজ ধরে মানুষ দিয়ে কাজ করানো শুরু করেন। ধীরে ধীরে ভালো একটি অবস্থানে চলে যান তিনি।

সবকিছু ঠিকঠাক চললেও দিনদিন তার ছেলে অবাধ্য হয়ে যাচ্ছে- এমন খবর প্রবাসী এই বাবার কানে আসে। একপর্যায়ে ছেলেকে কোনো এক কারণে জেলে যেতে হয়। এসব কিছু জেনে বাধ্য হয়ে তিনি ছেলেকে বাহরাইন পাঠিয়ে দেন।

এদিকে, প্রবাস জীবনের জমানো অর্থ ছিল স্ত্রীর কাছে। সেই অর্থেরও হিসাব দিতে পারছিলেন না স্ত্রী। স্ত্রী আর ছেলের অবাধ্য আচরণে বেশ ভেঙে পড়েন। একবার স্ট্রোকও করেন ফজুলল হক। ছেলেকে নিয়ে আসেন সৌদিতে, নিজের কাছে।

তারপরও যেন কোনোভাবে সুখ খুঁজে পাচ্ছিলেন না। কারণ পরিবারের উপার্জনের মাধ্যম তিনি হলেও সবকিছু পরিচালিত হতো স্ত্রীর মাধ্যমে। একপর্যায়ে স্ত্রীর বিশ্বাসঘাতকতার প্রমাণ পেয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন। হারিয়ে ফেলেন চোখের আলোও। কাছের মানুষগুলো একে একে দূরে সরে যান। একা হয়ে পড়েন ফজলুল হক।

সবকিছু হারিয়ে তিনি আশ্রয় নেন রিয়াদের ইশারা ডিরেক্টরের পাশের একটি পার্কে। কী রোদ, কী বৃষ্টি- সবকিছু সঙ্গী করে এক মাস পড়ে থাকেন সেখানে। বিষয়টি নজরে আসে জাগো নিউজের সৌদি-আরব প্রতিনিধির।

তাকে নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশি এবং তার সাবেক সহকর্মীদের নজরে আসে। এগিয়ে আসেন তারা। ভর্তি করান হাসপাতালে। এছাড়া তাকে দেশে পাঠানোর সব উদ্যোগও নেয়া হয়। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান অভিমানী ফজলুল হক।

আপনি দেখেছেন কি?

‘কিছু প্রবাসীর কারনে দেশের নাম খারাপ হচ্ছে’

কুমিল্লার এক যুবকসহ তিন বাংলাদেশির প্রত্যেকের ডান হাত ও বাম পা কর্তন করার নির্দেশ দিয়েছে …