ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

শেখ হাসিনার ‘তিন তৌফিক’

গল্পটা বেশ পুরোনো। তবে এখনো সমান জনপ্রিয়। ২০০৭ সাল, ক্ষমতায় বসেছে সেনা সমর্থিত ড. ফখরুউদ্দিন আহমেদের অনির্বাচিত সরকার। ক্ষমতায় এসেই মাইনাস ফর্মুলা বাস্তবায়নে ঝাঁপিয়ে পড়ে এই সরকার। জুলাই মাসে গ্রেপ্তার করে শেখ হাসিনাকে। বিনা অপরাধে আটক শেখ হাসিনা অন্তরীণ অবস্থায় আল্লাহকে ডাকেন।

আল্লাহর কাছে আকুতি করেন, ‘হে’ আল্লহ তুমি আরেকবার আমাকে তৌফিক দাও, আমি যেন এদেশের মানুষের জন্য কিছু করতে পারি।‘ মহান আল্লাহ, শেখ হাসিনার ওপর সন্তুষ্ট হয়ে তাঁকে একটির বদলে তিনটি তৌফিক দান করেন। এই তিন তৌফিকের জ্বালায় আওয়ামী লীগ তো বটেই শেখ হাসিনাও অতিষ্ঠ। অবশ্য ইদানিং তিন তৌফিকের গুরত্ব কমেছে।

শেখ হাসিনার প্রথম তৌফিক হলো হোসেন তৌফিক ইমাম। সংক্ষেপে যাঁর নাম এইচ টি ইমাম। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর, তিনিই হয়ে যান, দ্বিতীয় ক্ষমতাবান ব্যক্তি। আমলা থেকে শুরু করে মন্ত্রী এমপি বানানোর ক্ষেত্রে ‘মহান‘ ভূমিকা পালন করেন। কোথায় কাকে বসাবেন, কাকে পদোন্নতি দেবেন- ভাবনায় তাঁর ব্যস্ত জীবন। তিনি এবং তাঁর পুত্রের দাপটে অস্থির হয়ে ওঠে সরকার। অবস্থা এমন দাঁড়ায়, যে শেখ হাসিনাই তাঁকে ডেকে একটু থামতে বলেন। এই তৌফিক লেগে থাকা তৌফিক।

জাতির পিতা তাঁকে ‘মন্ত্রিপরিষদ সচিব’ বানিয়েছিলেন। অথচ জাতির পিতার লাশের ওপর দিয়েই তিনি খুনি মোশতাকের শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। জিয়া এসে তাঁকে পদানবতি দিয়ে যুগ্ম সচিব বানিয়ে দেন। কিন্তু তাতেও লজ্জিত না হয়ে গর্বিত হয়ে লেগে থাকেন তিনি। এরশাদের আমলে আবার সচিব হন। দুর্নীতির দায়ে চাকরিও হারান। ৯৬ তে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে তিনি একটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান হয়েও বদনাম ভালোই অর্জন করেন।

আর ২০০৯ সালে তো আকাশের চাঁদ হাতে পেয়েছিলেন। শেখ হাসিনা আস্তে আস্তে তাঁর লাগাম টেনে ধরেন। জনপ্রশাসন উপদেষ্টা থেকে রাজনৈতিক উপদেষ্টা বানিয়ে মোটামুটি অবসরে রেখেছেন। শেখ হাসিনাও এই তৌফিক থেকে মুক্ত।

দ্বিতীয় তৌফিকও একজন উপদেষ্টা। শেখ হাসিনার প্রতি আনুগত্য প্রশ্নাতীত। কিন্তু জ্বালানি খাতে তাঁর অধিকাংশ সিদ্ধান্ত দেশের স্বার্থবিরোধী এমন অভিযোগ প্রায় সবাই করে। ড. তৌফিক ইলাহী, বীর বিক্রম।

মনে করা হয়, রামপাল থেকে শুরু করে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি যত জন বিরোধী সিদ্ধান্ত তাঁর হোতা হলেন তিনি। রামপাল নিয়ে বিতর্ক হতো না, যদি না তিনি অযাচিত সব প্রসঙ্গ এখানে আনতেন। তার, এই তৌফিকেরও লাগাম এখন অনেক টেনে ধরেছেন শেখ হাসিনা। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির বিষয়গুলো এখন প্রধানমন্ত্রীই বেশি দেখেন।

তৃতীয় তৌফিককে নিয়ে অবশ্য সাধারণে আলোচনা কম। তবে কূটনৈতিক অঙ্গনে তাঁকে নিয়ে রসাত্মক গল্পের সংখ্যা কম না। তিনি পেশায় আইনজীবী। কিন্তু পেশাগত পরিচয়ের বাইরে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনির স্বামী হিসেবেই তিনি আলোচিত, সমালোচিত। ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজকে ২০০৯-১৩ সালে ডাকা হতো মি. ফরেন মিনিস্টার হিসেবে।

এক সময় তিনি ড. ইউনূসের আইন উপদেষ্টা ছিলেন। সেখানে তাঁর সঙ্গে আর্থিক দ্বন্দ্ব হয়। ড. ইউনূস গ্রামীন ব্যাংকের আইন উপদেষ্টা থেকে তাঁকে বাদ দেন। অনেকের ধারণা, সেই রাগ ঝাড়তেই তিনি গোটা সরকারকেই ইউনূসের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলেন। ড. ইউনূস ইমনিতেই একটু লোভী মানুষ। সরকার তাঁকে বিরুদ্ধ পক্ষে ঠেলে দিয়ে একটা বড় ঝামেলা কাঁধে তুলে নিয়েছে। সেটা অপ্রয়োজনীয় ছিল। আর এই অপ্রয়োজনীয় ঝামেলা সরকারের কাঁধে তুলে দিয়েছেন ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ।

তাছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রীর স্বামী হিসেবে অনেক বৈঠকে হুটহাট উপস্থিত হয়ে সরকারকে বিব্রত করেছেন বলেও কাঁনাঘুষা কম না। ডা. দীপু মনিকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দিয়ে শেখ হাসিনা তৃতীয় তৌফিকও ঘাড় থেকে নামিয়েছেন। আসলে, শেখ হাসিনার মতো কল্যাণব্রত সরকার প্রধানের জন্য ‘তৌফিক’ দরকার নেই। দরকার তাঁর কিছু একান্ত বিশ্বস্ত সহযোগী। সেরকম ক’জন আছে আওয়ামী লীগে? -বাংলা ইনসাইডার

ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন
Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE